নাটিকা “পুতুলের বিয়ে” নিয়ে বাঁশরীর প্রযোজনাভিত্তিক কর্মশালা ও নাট্যনির্দেশনা বিষয়ক বিশেষ কোর্সের ৩য় আয়োজন

10 October 2026

নাটিকা “পুতুলের বিয়ে” নিয়ে বাঁশরীর প্রযোজনাভিত্তিক কর্মশালা ও নাট্যনির্দেশনা বিষয়ক বিশেষ কোর্সের ৩য় আয়োজন

৩ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর বাঁশরী – একটি নজরুল চর্চা কেন্দ্র সম্প্রতি এটির নিজস্ব মিলনায়তনে কাজী নজরুল ইসলামের ধর্মীয় সম্প্রীতিনির্ভর নাটিকা “পুতুলের বিয়ে” নিয়ে ৩য় ব্যাচের প্রযোজনাভিত্তিক কর্মশালা ও নাট্যনির্দেশনা বিষয়ক বিশেষ কোর্স আয়োজন করে। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় এ নাটিকাটি মঞ্চায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৮দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালিত হয়। প্রখ্যাত নাট্যনির্দেশক জনাব গোলাম সারোয়ার এর তত্ত্বাবধানে অংশগ্রহণকারীরা নাটিকের প্রযোজনা ও নির্দেশনার নানা দিক নিয়ে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এবারের কর্মশালায় বাংলাদেশের ১৬টি জেলা থেকে মোট ১৭ জন নাট্যশিল্পী অংশগ্রহণ করেন।


প্রযোজনাভিত্তিক কর্মশালা ও নাট্যনির্দেশনা বিষয়ক কোর্সের উদ্বোধনী দিনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট নাট্যনির্দেশক ও নজরুল গবেষক জনাব গোলাম সারোয়ার। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মোট ১৬টি জেলার ১৭জন নাট্য নির্দেশককে প্রযোজনাভিত্তিক এ নাট্যকর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা কর্মশালা শেষে নিজ নিজ জেলায় পুতুলের বিয়ে নাটকটি মঞ্চায়ন করবে।”  


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাঁশরীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের গুটিকয়েক নাট্যদল নজরুলের গল্প, উপন্যাস ও নাটক নিয়ে কিছু নাটক মঞ্চায়ন করলেও, মূলত কাজী নজরুল ইসলামের মৌলিক নাটক মঞ্চায়নের প্রতি তাদের অনীহা রয়েছে, যা জাতীয় কবির প্রতি এক ধরণের অবমাননা বলে প্রতীয়মান হয়। এক্ষেত্রে বাঁশরী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা লেটোগান ও তার শিশুতোষ নাটকসহ প্রায় ৮০টি নাটক বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন নাট্যদল নিয়ে মঞ্চায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের মানুষ আরও নতুনভাবে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”


বাঁশরীর শিল্পীদের কণ্ঠে বাঁশরীর উদ্বোধনী সংগীত “জয় হোক, জয় হোক” পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এ নাট্যনির্দেশনা ও প্রযোজনাভিত্তিক কর্মশালার শুভসূচনা করা হয়। এরপর শিল্পীরা পরিবেশন করেন কাজী নজরুল ইসলামের ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা বহনকারী অনবদ্য সংগীত “মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম, হিন্দু-মুসলমান”।


এ কর্মশালায় নাট্যনির্দেশক হিসেবে প্রযোজনা, নাটকপাঠ ও অনুশীলন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ড. আইরিন পারভিন লোপা। নৃত্য ও কোরিওগ্রাফি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন জনাব সাজু আহমেদ। সংগীত বিষয়ে কর্মশালায় পাঠ দেন সংগীত প্রশিক্ষক গৌরি নন্দী। স্বর সাধন ও বাচনিক উৎকর্ষ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট আবৃত্তিকার, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও অভিনেতা জনাব ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। মনস্তাত্বিক ও শারীরিক অনুশীলন বিষয়ে পাঠ প্রদান করেন অভিনয় অঙ্গণের পরিচিত মুখ জনাব এ কে আজাদ সেতু। গ্রিপ্স থিয়েটার বিষয়ে আলোকপাত করেন বাংলাদেশের নাট্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনাকারী এবং ডিজাইনার জনাব জুনায়েদ ইউসুফ।


১০ অক্টোবর ২০২৬, প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী দিনে প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র ও স্মারক উপহার প্রদান করা হয়।