28 July 2026
বাঁশরীর আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমিতে ৪দিন ব্যাপী নজরুল নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত
সরকারঘোষিত নজরুল বর্ষে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩-১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৪) “জয় হোক জয় হোক শান্তির জয় হোক, সাম্যের জয় হোক, সত্যের জয় হোক জয় হোক” এই মূলসুরকে উপজীব্য করে বাঁশরী – একটি নজরুল চর্চা কেন্দ্র জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ২৫জুলাই থেকে ২৮ জুলাই ২০২৬ চারদিন ব্যাপী নজরুল নাট্যোৎসব ২০২৬ আয়োজন করে। দ্রোহ, প্রেম ও সম্প্রীতির কবি নজরুল রচিত নাটক মঞ্চায়নের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাঁশরীসহ নজরুলকেন্দ্রিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে নজরুল সংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তিতে এই বর্ণিল নাট্যোৎসব এক বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়। চারদিন ব্যাপী এই নাট্যোৎসবকে ঘিরে শিল্প-সাহিত্যের সমঝদার, শিল্পী, নাট্যগোষ্ঠী, নির্দেশক, নাট্যব্যক্তিত্বসহ নজরুল ভক্ত-অনুরাগী ও সংবাদমাধ্যমের পদচারণায় মুখর ছিল শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণ।
এই নাট্যোৎসবটি দুটি পর্বে সাজানো হয়। প্রথম পর্বে বাঁশরীসহ ঢাকা মহানগরীভিত্তিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণ মঞ্চ ও স্টুডিও থিয়েটারে নজরুল সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করে। দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যা ৭টা থেকে নাট্যদলগুলো জাতীয় নাট্যশালা ও স্টুডিও থিয়েটারে নজরুল রচিত নাটক মঞ্চায়ন করে। পাশাপাশি বাঁশরী নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বই ৫০ শতাংশ ছাড়ে সরবরাহ করে।
উৎসবটির ১ম পর্বের ১ম দিন ২৫শে জুলাই ২০২৬, শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, কাব্য কুহক, বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদ ও বাঁশরী – একটি নজরুল চর্চা কেন্দ্রের শিল্পীবৃন্দ। ২৬ জুলাই ২০২৬, রবিবার উৎসবের ২য় দিন সুরনন্দন- নজরুল সংগীত চর্চা কেন্দ্র, গেন্ডারিয়া কিশলয় ললিতকলা কেন্দ্র, জেমস অব নজরুল ও বাঁশরীর শিল্পীবৃন্দ এবং ২৭ জুলাই ২০২৬, সোমবার তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ নজরুল সংগীত সংস্থা, গ্রহস্বর, কেন্দ্রীয় বাফা বুলবুল একাডেমি, খিলগাঁও শাখা, কথাশৈলী আবৃত্তি চক্র ও বাঁশরীর শিল্পীগণ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
মূল পর্বের ১ম দিন ২৫ জুলাই ২০২৬ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নাট্যোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড ইসরাফিল শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব জনাব গোলাম সারোয়ার। নাট্যোৎসবের উদ্বোধনী দিনে সাজ্জাদ সাজুর নির্দেশনায় মঞ্চায়ন করা হয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক বনের মেয়ে পাখী। নাটকটি পরিবেশন করে বাঁশরী রেপারটরি থিয়েটার।
২৬ জুলাই ২০২৬, রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালায় নাট্যব্যক্তিত্ব ও নির্দেশক গোলাম সারোয়ার এর নির্দেশনায় ও বাঁশরী রেপারটরি থিয়েটারের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক আলেয়া। পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে সোনিয়া খাতুনের নির্দেশনায় শিশুতোষ নাটক পুতুলের বিয়ে পরিবেশিত হয়। এরপর একই মঞ্চে নির্দেশক ধীমান বর্মণের নির্দেশনায় মঞ্চায়ন করা হয় নাটক বউয়ের বিয়ে। নাটকটির পরিবেশনায় ছিল রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ।
নাট্যোৎসবের তৃতীয় দিন ২৭ জুলাই ২০২৬, সোমবার জাতীয় নাট্যশালা মঞ্চে নির্দেশক নূর হোসেন রানার নির্দেশনায় এবং জেনেসিস লিটল থিয়েটার গ্রুপের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক সকাল বেলার পাখি। এরপর একই মঞ্চে গোলাম সারোয়ার এর নির্দেশনায় ও বাঁশরী রেপারটরি থিয়েটারের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নদীতে কৃত্রিম বাঁধ দেওয়ার বিরুদ্ধে কবি নজরুলের রচিত সচেতনতামূলক নাটক সেতু-বন্ধ। একই দিনে স্টুডিও থিয়েটারে নির্দেশক শাহানা মনির নির্দেশনায় ও মাতৃভূমি কালচারাল একাডেমি, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জের পরিবেশনায় ২য় বারের মত মঞ্চস্থ করা হয় নাটক পুতুলের বিয়ে। পুতুলের বিয়ে’র পরিবেশনার পর নির্দেশক হাসান ফেরদৌসের নির্দেশনায় বহর নাট্য নৃত্যদল মঞ্চায়ন করে লেটোনাটক স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া।
নাট্যোৎসবের চতুর্থ দিন ২৮ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় চারদিন ব্যাপী নাট্যোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান। বাঁশরী একটি নজরুল চর্চা কেন্দ্রের শিল্পীগণ এতে সংগীত পরিবেশন করেন। বাচিকশিল্পী টিটো মুন্সী আবৃত্তি করেন নজরুলের কবিতা। এ নাট্যোৎসবের অংশ হতে সুদূর কোলকাতা থেকে আগত নজরুল সংগীতশিল্পী সুমনা চট্টোপাধ্যায় পরিবেশন করেন নজরুলসংগীত। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাঁশরীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান। তিনি ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের পর মঞ্চস্থ হয় নাটক হারাধনের বিয়ে। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন শামীমা আক্তার মুক্তা এবং পরিবেশনায় ছিল মেঠোপথ থিয়েটার। নাটকটির প্রাণবন্ত পরিবেশনা শেষে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথিগণ ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে নাটকের কুশীলবদের শুভেচ্ছাজ্ঞাপন এর মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর আবহে সমাপ্তি ঘটে চারদিন ব্যাপী এ অনবদ্য নাট্যোৎসবের।
নাট্যোৎসবের অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আইরিন পারভীন লোপা, গোলাম কিবরিয়া, গুলে ফেরদৌস লতা ও রেহানা পারভীন হাসি । নাট্যোৎসবটির সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং মিডিয়া পার্টনার ছিল দেশ টিভি এবং দীপ্ত টিভি।